স্পেনে অভিবাসী সংকট ঘিরে ইউরোপে উদ্বেগ, সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ছে
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটা (Ceuta)-তে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আকস্মিক এই পরিস্থিতিকে ঘিরে ইউরোপজুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৮৪ হাজার জনসংখ্যার সেউটায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সাঁতরে, ভাসমান টিউব ব্যবহার করে কিংবা সীমান্তের কাঁটাতার অতিক্রম করে প্রবেশ করেন। এতে অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো দ্রুত ধারণক্ষমতা হারায়। অনেকে পরে মরক্কোতে ফিরে গেলেও এ ঘটনায় অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা অঞ্চলটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২২টি সদস্য রাষ্ট্র যৌথ চিঠিতে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “অবৈধ প্রবেশকে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।”
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির কিছু সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফ্রান্স সীমান্তে পুলিশ মোতায়েন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এবং পর্তুগালও দক্ষিণ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কনজারভেটিভ নেতা মানফ্রেড ওয়েবার ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স (Frontex)-কে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ৮ জুলাই স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সমুদ্রপথে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাচারকারী চক্র এই রায়কে ভুলভাবে প্রচার করে অভিবাসীদের স্পেনে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়ের পাশাপাশি স্পেনের তুলনামূলক উদার অভিবাসন নীতিও এ পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেছেন, মানবপাচারকারী চক্র অসহায় মানুষদের বিভ্রান্ত করেছে। তিনি দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এদিকে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মরক্কো কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে পরিস্থিতিকে শিথিলভাবে মোকাবিলা করেছে। কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই সেউটা ও মেলিলার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। যদিও স্পেন সেই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনাটির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে “একটি দেশের ওপর আক্রমণ” বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সেউটা এলাকায় ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্পেন ও মরক্কোর প্রতি মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “সমষ্টিগত বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”



