অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন, অনশোর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণে নতুন দিকনির্দেশনা (মিনিস্ট্রিয়াল ডিরেকশন-১১৯) জারি করেছে। নতুন এ নির্দেশনায় দেশটির বাইরে থেকে (অফশোর) আবেদনকারীদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত (অনশোর) আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাত–সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার থাকবে একই খাতের অফশোর আবেদনকারীদের জন্য।
তৃতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতের পেশাজীবীদের। চতুর্থ ধাপে থাকবেন অনশোরের অন্যান্য আবেদনকারী। আর সর্বশেষ অগ্রাধিকার পাবেন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থানরত (অফশোর) অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীরা।
অভিবাসন–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এ নীতির ফলে অফশোর থেকে আবেদন করা চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে অনশোর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নীতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশটির চাহিদাসম্পন্ন পেশায় কাজ করছেন বা প্রয়োজনীয় দক্ষতার স্বীকৃতি (স্কিল অ্যাসেসমেন্ট) অর্জন করেছেন, তারা অনশোর আবেদনকারী হিসেবে তুলনামূলক বেশি অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ওয়ার্কিং হলিডে’সহ বিভিন্ন বৈধ কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে পরবর্তীতে আবেদনকারীরাও নতুন নীতির সুবিধা পেতে পারেন।
এদিকে আঞ্চলিক এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তাদের ওপরও এ নীতির প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, তারা বিদেশ থেকে যেসব কর্মী মনোনয়ন দেন, তাদের আবেদন এখন অনশোর আবেদনকারীদের তুলনায় কম অগ্রাধিকার পাবে। এমপ্লয়ার-স্পন্সরড ভিসার ক্ষেত্রেও অফশোর আবেদনকারীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ নীতির ফলে আবেদনকারীর যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে নাকি বাইরে অবস্থান করছেন—সেটিও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।
সূত্র: প্রথম আলো



