কানাডায় বিশ্বের শীর্ষ ৩০তম ম্যাকগিলে ব্যবস্থাপনায় পড়ার সুযোগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্য বিশ্লেষণ, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়িক নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তুলতে চায় কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেসাউটেলস ফ্যাকাল্টি অব ম্যানেজমেন্ট। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩০তম অবস্থানে থাকা ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ব্যবস্থাপনা অনুষদ ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এটি বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে পরিচিত।

দেসাউটেলসের ব্যবস্থাপনা শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সুযোগ। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এমবিএতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা

মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ১০ দিনের আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফরের সুযোগ। এই সফরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরাসরি দেখার পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে কর্মশালা ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা উত্তর আমেরিকার অংশীদার কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি সেমিস্টার কাটাতে পারেন। এরপর নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য অনুযায়ী ইন্টার্নশিপের সুযোগও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা দলের সহায়তায় পূর্ণকালীন এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করতে চান, তাদের জন্য শিক্ষক-নির্দেশিত ব্যবহারিক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ ও এআই নিয়ে পড়াশোনা

মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট ইন অ্যানালিটিকস (এমএমএ) কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তথ্য বিশ্লেষণ, এআই এবং তথ্যনির্ভর কৌশল ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এর অংশ হিসেবে রয়েছে ‘এক্সপেরিয়েনশিয়াল অ্যানালিটিকস কনসালটিং’ মডিউল। পাশাপাশি এক বছর মেয়াদি করপোরেট পরামর্শক প্রকল্পে কেপিএমজি ও ল’রিয়ালের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ডিজিটাল করা এবং তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কাজের সুযোগ রয়েছে।

এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে কানাডার ছোট ও মাঝারি আকারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক সহায়তা দিয়েছেন।

অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের বাস্তব অভিজ্ঞতা

মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট ইন ফাইন্যান্স (এমএমএফ) কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা দেসাউটেলস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেটেডের মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। এটি কানাডার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় মালিকানাধীন, শিক্ষার্থী পরিচালিত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পেশাদার বিনিয়োগ কৌশল তৈরির সুযোগ পান। এ ছাড়া প্রতিবছর লন্ডনে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। সেখানে ম্যাকগিলের সাবেক শিক্ষার্থী এবং অর্থ খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে দেখা করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকে।

খুচরা ব্যবসায় এআই ব্যবহারের সুযোগ

মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট ইন রিটেইলিং (এমএমআর) কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা খুচরা ব্যবসার বাস্তব সমস্যা সমাধানে জেনারেটিভ, প্রেডিক্টিভ ও প্রেসক্রিপটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পান।

‘রিটেইল জেনএআই হ্যাকাথন’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সমাধান তৈরির কাজ করেন। এ ছাড়া ‘রিটেইল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নিয়ে খুচরা ব্যবসাকে আরও টেকসই করার জন্য নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

এই কর্মসূচিতে এক বছর মেয়াদি খুচরা ব্যবসা প্রকল্প, তিন থেকে চার মাসের ইন্টার্নশিপ এবং রিটেইল ইনোভেশন ল্যাবে কাজের সুযোগও রয়েছে। বিপণন, কৌশল, পরিচালনা, তথ্যবিজ্ঞান ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করা যায়।

বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ

দেসাউটেলসের কর্মসূচিগুলোতে ব্যবসা, অর্থনীতি ও তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অলিম্পিক ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং ব্যবসা ও অর্থ খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষক ও পাঠ্যসূচির মাধ্যমে নয়, সহপাঠীদের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার সুযোগ পান। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পরামর্শ ও পেশাগত যোগাযোগের সুযোগও এই শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ বিষয়ে এমবিএ শিক্ষার্থী ওরেওলুওয়া আলাবি বলেন, কর্মসূচির নেতৃত্ব উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার পরামর্শ তার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। আর এমএমএ শিক্ষার্থী আইরিস ওয়াংয়ের মতে, কর্মসূচিটি শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য সহায়ক পরিবেশ ও বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে।

পড়াশোনার পাশাপাশি মন্ট্রিয়লে ক্যারিয়ার

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত। শহরটি বিশ্বের উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী শহরগুলোর একটি। খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসবের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি, প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং ভিডিও গেম উন্নয়নসহ বিভিন্ন শিল্পে মন্ট্রিয়লের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির মতে, এসব শিল্পখাতের কাছাকাছি অবস্থান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা তৈরি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে পারে।

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেসাউটেলস ফ্যাকাল্টি অব ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা শিক্ষার মূল লক্ষ্য তাই শুধু ব্যবসা পরিচালনার জ্ঞান দেওয়া নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করা।