অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, সমালোচনার মুখে জানালেন কেন ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে হাতে পিস্তল নিয়ে তিনি কয়েকজনকে ধরার নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে আটক করতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে আরও দুই ব্যক্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

পরে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে সমালোচনার মুখে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

অস্ত্র বৈধ, দাবি প্রতিমন্ত্রীর

নিজের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ বলে দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর তিনি অস্ত্রটি সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় অস্ত্রটি তাঁর কাছে ছিল না বলে হলফনামায় এর উল্লেখ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত নীতিমালার ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর সংসদীয় আসন ঢাকা-৬-এর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।

ইশরাক বলেন, পুলিশের সঙ্গে তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার বৈঠক করেছেন। তবে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে জনবল ও যানবাহনের সংকটের কথা জানিয়েছে। তাঁর দাবি, মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি চালায় বলে নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি তো আর গুলি করি নাই, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাই নাই। হ্যাঁ, অভিযান আমরা করেছি, আমরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।”

তবে প্রকাশিত ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীকে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে শিশুদেরও উপস্থিতি ছিল।

পুলিশের দাবি, আগেই অভিযান চালানো হয়েছে

প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, গত ১১ অক্টোবর ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। এতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরাও অংশ নেন।

ওসি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। অভিযান ও এর ফলাফল সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার জন্য বৈধ অস্ত্র বহনের অনুমতি থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তে জনপ্রতিনিধির সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ হলো নির্দেশনা দেওয়া। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। মন্ত্রীকেই যদি অস্ত্র হাতে অভিযানে নামতে হয়, তাহলে পুলিশের কাজ কী?

প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।

সূত্র: প্রথম আলো।