মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আগের চেয়েও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের আশঙ্কা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর ঘোষণার পর কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক নেতাদের অভিযোগ, আগেরবার ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ঘিরে সিন্ডিকেট গড়ে উঠলেও এবার তা আরও সীমিত হয়ে ২৫টি মূল এজেন্সির হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। এতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বায়রার সাবেক নেতাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে কোনো গোলটেবিল বৈঠক ছাড়াই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বায়রার সাবেক নেতা ফখরুল ইসলাম জানান, আগের ব্যবস্থায় ১০০টি মূল এজেন্সির অধীনে ৮০০টির বেশি এজেন্সি সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। এবার ২৫টি মূল এজেন্সির সাথে ৩১২টি এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর জন্য মূল এজেন্সির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতে পারে। এতে কর্মী পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ আরও অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বায়রার সাবেক নেতারা। তাঁদের দাবি, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও ১৭টি মেডিকেল সেন্টার কী মানদণ্ডে নির্বাচন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আগের সিন্ডিকেটের সাথে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা থাকার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাবেক নেতাদের আরও অভিযোগ, ২৫টি এজেন্সির তালিকাভুক্তির জন্য প্রায় ৫০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত এবং মেডিকেল সেন্টার তালিকাভুক্তির জন্য প্রায় ২০ লাখ রিঙ্গিত লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএসের (FWCMS) সাথে সংশ্লিষ্ট খরচ এবং মেডিকেল পরীক্ষার ক্ষেত্রে কর্মীপ্রতি কমিশন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নতুন ব্যবস্থার বাইরে থাকা বায়রার প্রায় আড়াই হাজার সদস্য কীভাবে কর্মী পাঠাবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন সাবেক নেতারা। তাঁদের মতে, কর্মীদের কাছ থেকে কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হবে, মোট অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি।

তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় যেতে একজন কর্মীর অভিবাসন ব্যয় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এতে বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার জন্য কর্মীদের বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হতে পারে এবং তাঁদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।

বায়রার সাবেক নেতারা বলছেন, শ্রমবাজার চালুর আগে এজেন্সি নির্বাচনের মানদণ্ড, প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা, নির্ধারিত ফি এবং কর্মীদের মোট ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে নতুন ব্যবস্থাতেও সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থেকে যাবে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত বিদেশগামী কর্মীদের ওপরই পড়তে পারে।