ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা কমলেও ভূমধ্যসাগরীয় পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের (Frontex) অক্টোবরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফ্রন্টেক্সের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে ৯১ হাজারের বেশি অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৩২ শতাংশ কম। তবে পূর্ব ও মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে যাতায়াতের চাপ এখনো উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব ও মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট অনিয়মিত প্রবেশের প্রায় ৬০ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।
দুই সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের অবস্থান
ফ্রন্টেক্সের হিসাবে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৩১ হাজার ৮০০টি অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ পথে শনাক্ত হওয়া প্রধান জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন সুদান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের নাগরিকেরা। লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ, এজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জ এবং তুরস্কের স্থলসীমান্তসংলগ্ন এলাকা এ পথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে একই সময়ে প্রায় ২২ হাজার ৫০০টি অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৬ শতাংশ কম। এ পথে শনাক্ত হওয়া প্রধান জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, আলজেরিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকেরা। লিবিয়া এ পথের অন্যতম প্রধান যাত্রা শুরুর স্থান; তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া থেকেও অনেকে যাত্রা করেন।
ঝুঁকি কমেনি, প্রাণহানিও অব্যাহত
অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা কমলেও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় দুই হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
মানব পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌকায় মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠাচ্ছে। এতে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যানস লেইটেনস সতর্ক করে বলেছেন, অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা কমলেও পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। পরিস্থিতি ও সুযোগ বুঝে তারা পথ পরিবর্তন করতে পারে।
ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক নতুন চুক্তি ২০২৬ সালের ১২ জুন কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় বহিঃসীমান্তে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারীদের পরিচয়, বায়োমেট্রিক তথ্য ও নথি যাচাইসহ নির্ধারিত প্রাথমিক যাচাইপ্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এ কাজে সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা করছে ফ্রন্টেক্স।
যাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বা যাঁদের দেশটিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করতে পারে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে তাঁর পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর।
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফিরেছেন ৩৫ বাংলাদেশি
ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা, পরামর্শ ও বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।
ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের চেষ্টা যে ঝুঁকিমুক্ত নয়, ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির ঘটনা ও দেশে ফেরত পাঠানোর নজির তা আবারও সামনে এনেছে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ অভিবাসনপথ, কাজের অনুমতি এবং গন্তব্য দেশের নিয়মকানুন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।



