বিদেশে নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ১৩ দেশের ২২ ল’ ফার্মের সাথে চুক্তি
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষা ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে ১৩টি দেশের ২২টি ল’ ফার্মের সাথে চুক্তি করেছে সরকার। পাশাপাশি সৌদি আরবে দুটি এবং ওমানে একটি সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরো দেশে নারী কর্মীদের জন্য এ ধরনের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি নারী কর্মীরা প্রধানত সৌদি আরব, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। এ ছাড়া হংকংসহ কয়েকটি দেশে হাউসকিপিং ও কেয়ারগিভিং খাতেও তারা কর্মরত। অতীতে নিগ্রহের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে তা অনেক কমে এসেছে।
কোনো বাংলাদেশি নারী বা পুরুষ কর্মী বিদেশে নিয়োগকর্তার দ্বারা নিগ্রহের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট ল’ ফার্মগুলোর মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের দুটি কল সেন্টারের মাধ্যমেও কর্মীরা অভিযোগ জানাতে পারেন।
নতুন শ্রমবাজারের উদ্যোগ
ওমানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য খসড়া পাঠানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় পাঁচটি ট্রেডে পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে সেখান থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
জর্ডানে বোয়েসেলের মাধ্যমে গত ছয় মাসে ৭ হাজার ৬৮৩ জন গার্মেন্টস কর্মী পাঠানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার সংকুচিত হলেও দুবাইয়ের একটি ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬০০ জন চালক নিয়েছে।
প্রতারণা ঠেকাতে ব্যবস্থা
সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতারণা বা জিম্মি করার সাথে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাংলাদেশ দূতাবাস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দেশে ফেরার পর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
অভিবাসন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
বিদেশে কর্মী পাঠানোর অভিবাসন ব্যয় কমানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০১৩ সালে নির্ধারিত খসড়া ব্যয় কাঠামো বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় হালনাগাদ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তা যাচাই করে। বেতন, থাকার পরিবেশ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। এভাবে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়।
তবে বিশেষ বিবেচনায় এক থেকে পাঁচজন কর্মীর ভিসা অ্যাটেস্টেশন ছাড়াই অনুমোদনের সুযোগের কিছু অপব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।



