অভিযান জোরদার, ভয়ে মালয়েশিয়া ছাড়ছেন কাগজপত্রহীনরা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় দেশে ফেরার প্রবণতা বেড়েছে। গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাবন্দিত্ব এড়াতে অনেক বিদেশি সরকার ঘোষিত অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি-২ (পিআরএম ২.০)-এর আওতায় নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করে দেশে ফিরছেন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, পিআরএম ২.০-এর মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বিদেশির সাড়া এবং কর্মসূচির কার্যকারিতা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১১২ দেশের ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন অনিবন্ধিত অভিবাসী কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন। এ সময় সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২৭ কোটি রিঙ্গিত।

তবে কর্মসূচিতে নিবন্ধনকারী এবং দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এক নয়। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন বিদেশি দেশে ফিরেছেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছেন বাংলাদেশিরা। তবে পৃথকভাবে কতজন বাংলাদেশি কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরেছেন, সে বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ পাস ছাড়া প্রবেশ বা অবস্থানের ক্ষেত্রে ৫০০ রিঙ্গিত এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা নির্ধারিত রয়েছে। তবে আগের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেও যারা দেশে ফেরেননি কিংবা কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তারা পিআরএম ২.০-এর এই সুবিধা পাবেন না।

এদিকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে পিআরএম ২.০-এর সুযোগ নিয়ে আইনসম্মতভাবে দেশে ফিরতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কর্মসূচিতে আবেদন করতে কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেককে নিজের আবেদন নিজেকেই করতে হবে।

দেশে ফিরতে হলে বৈধ ও মেয়াদযুক্ত পাসপোর্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে কিংবা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভ্রমণ অনুমতিপত্র নেওয়া যাবে। এরপর নিশ্চিত বিমান টিকিট নিয়ে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।