থার্ড টার্মিনাল চালুর দিনক্ষণ জানালেন মন্ত্রী, শুরুতে সীমিত ফ্লাইট
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টার্মিনালটি চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
একই সাথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, যেভাবেই হোক আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে। টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিদিন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ।
তিনি জানান, ইন্টারনেট, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং ব্যবস্থাগুলোর সমন্বয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরুতে একটি বা দুটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে।
বাড়বে বিমানবন্দরের সক্ষমতা
মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে। তখন সর্বোচ্চ ২৫০টি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হবে।
আধুনিক অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত জায়গা ব্যবহার করে এই সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
বাড়ছে রাজস্বের অংশ
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশও বাড়ানো হয়েছে। জাপানি অংশীদারদের সাথে আলোচনার পর রাজস্বের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধও শুরু হয়েছে। এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে।
১৫ মিনিটে লাগেজ দেওয়ার নির্দেশ
যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে লাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রধান বিমানবন্দরের যাত্রী ও উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



