ইইউতে ছয় মাসে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদন

আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ, গ্রহণযোগ্যতা মাত্র ৩ শতাংশ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। তবে আবেদন বাড়লেও আশ্রয় পাওয়ার হার খুবই কম—মাত্র ৩ শতাংশ আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা (ইইউএএ)-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে মোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৫৮টি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর কোনো ছয় মাসের সময়ে এত কম আশ্রয় আবেদন জমা পড়েনি। সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন, উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপের কারণে আবেদন কমার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

আফগানরা শীর্ষে, এরপর ভেনেজুয়েলা

জাতীয়তার হিসাবে ইইউতে সবচেয়ে বেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন আফগান নাগরিকরা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩৯ হাজার আফগান নাগরিক আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির প্রায় ৩৩ হাজার নাগরিক এ সময়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

তবে বাংলাদেশিদের আবেদন সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশ হিসেবে বিবেচনা করায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন সাধারণত দ্রুত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

৯৭ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখ্যাত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করলেও অধিকাংশ আবেদন অনুমোদন পায়নি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের মাত্র ৩ শতাংশ আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, আর ৯৭ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইইউএএ বলছে, নিরাপদ উৎস দেশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু আবেদন সীমান্তভিত্তিক প্রক্রিয়ার আওতায়ও নেওয়া হবে।

ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও জার্মানিতে বেশি আবেদন

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও জার্মানি। ফ্রান্সে প্রায় ৬৯ হাজার, ইতালিতে ৬৬ হাজার, স্পেনে ৫৫ হাজার এবং জার্মানিতে ৫৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

ইইউএএ জানিয়েছে, এই চার দেশ মিলে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ গ্রহণ করেছে।

নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি কার্যকর

গত ১২ জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যেসব আবেদনকারীর আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম অথবা যারা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারেন, তাদের দ্রুততর প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে। আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে তাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করতে হতে পারে।