জমেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার আবেদন
কানাডায় নাগরিকত্ব সনদের অপেক্ষা ৩৩ মাস
নতুন আইনের কারণে বেড়েছে আবেদন, দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তিতে আবেদনকারীরা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কানাডায় নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হচ্ছে। দেশটির ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে নাগরিকত্ব সনদের জন্য জমে থাকা আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজারে পৌঁছেছে।
এর ফলে অনেক আবেদনকারী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। আগে যেখানে নাগরিকত্ব সনদ পেতে গড়ে প্রায় ২৫ মাস সময় লাগত, এখন তা বেড়ে ৩৩ মাসের বেশি হয়েছে। কানাডা ও আমেরিকার বাইরে থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
নতুন আইনে বেড়েছে আবেদন
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া বিল সি-৩ নাগরিকত্ব আবেদনের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম প্রজন্মের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডিয়ান নাগরিকদের সন্তানরাও এখন নাগরিকত্বের দাবি করতে পারছেন।
নতুন নিয়ম চালুর পর ইতোমধ্যে ৬ হাজার ১০০ জন নাগরিকত্ব সনদ পেয়েছেন। এর মধ্যে আমেরিকায় জন্ম নেওয়া আবেদনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
আবেদন বেড়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে
কানাডিয়ান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাইল হাইন্ডম্যান বলেন, আবেদন সংখ্যা বর্তমানে নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা আইআরসিসির বর্তমান সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করেছে।
আইনজীবী ক্রিস্টিন বেলটেম্পো জানান, শুধু আমেরিকা নয়, মেক্সিকো, বলিভিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক আবেদন এসেছে।
তার মতে, দীর্ঘ অপেক্ষা অনেক আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।
নাগরিকত্ব সনদ ছাড়া তৈরি হচ্ছে জটিলতা
অনেক আবেদনকারী জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব সনদ না পাওয়ায় তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। শিক্ষা, চাকরি, ভ্রমণ ও পারিবারিক পরিকল্পনার মতো বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
তাদের মতে, দীর্ঘ প্রক্রিয়া জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
আইআরসিসির বক্তব্য
আইআরসিসি জানিয়েছে, অনেক নাগরিকত্ব আবেদন জটিল হওয়ায় অতিরিক্ত নথি যাচাই ও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। এ কারণে কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বর্তমান সময়সীমাকে আগের সময়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যাবে না, কারণ আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। তবে আবেদন দ্রুত সম্পন্ন করতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৩ সালে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট নাগরিকত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম প্রজন্মের সীমাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নতুন আইন কার্যকর করা হয়। ফলে বিদেশে জন্ম নেওয়া আরও অনেক কানাডিয়ান নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।



