অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে পে স্কেল, বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের হতাশা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে—এমন প্রত্যাশার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো তা প্রকাশ হয়নি। এমনকি নতুন বেতন কাঠামোর খসড়াও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়াটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে। এ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “এক সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু গেজেটের কোনো খবর নেই। তাই সবার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আবার কোথায় আটকাল?”

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, দ্রুতই এটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কখনো কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর পে স্কেল ঘোষণা হওয়ায় এবার অপেক্ষা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি।

আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া

বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “গত সপ্তাহে শুনেছিলাম দুই-এক দিনের মধ্যে অনুমোদিত পে স্কেলের খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু এখনো তা আমাদের কাছে আসেনি।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি আটকে থাকার নয়। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রুতই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন পে স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। আর ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

দশ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর পাঁচ বছর পর নতুন পে স্কেল দেওয়ার কথা থাকলেও গত এক দশকে তা হয়নি।

২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।

কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনে শুধু বেতন নির্ধারণ নয়, বরং বিভিন্ন বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কীভাবে এটি কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়।

এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারি চাকরিজীবীরা অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের জন্য।