কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন ৭ শর্ত
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২৬ সাল থেকে নির্দিষ্ট সাতটি শর্ত পূরণ করলেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা আলাদা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
কানাডা সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সবগুলো শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হবে। কোনো একটি শর্ত পূরণ না হলে কাজের অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।
কাজের জন্য পূরণ করতে হবে ৭ শর্ত
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমত শিক্ষার্থীকে কানাডার অনুমোদিত ডিজাইনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে (DLI) ফুল-টাইম শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীর অবশ্যই পড়াশোনার কার্যক্রম শুরু করা থাকতে হবে। শুধু ভর্তি হওয়া যথেষ্ট হবে না।
তৃতীয়ত, তাকে পোস্ট-সেকেন্ডারি একাডেমিক, ভোকেশনাল বা প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করতে হবে। তবে কুইবেক প্রদেশে নির্দিষ্ট সেকেন্ডারি-লেভেল ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামও এর আওতায় থাকবে।
চতুর্থত, শিক্ষার্থীর বৈধ স্টাডি পারমিট থাকতে হবে অথবা পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
পঞ্চমত, যে শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছেন তার মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস হতে হবে এবং তা ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যমে শেষ হতে হবে।
ষষ্ঠত, প্রাথমিক স্টাডি পারমিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে শিক্ষার্থী অফ-ক্যাম্পাসে কাজ করতে পারবেন।
সপ্তমত, শিক্ষার্থীর অবশ্যই সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স নাম্বার (SIN) থাকতে হবে।
কাজ শুরুর আগে প্রয়োজন SIN
কানাডার সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স নাম্বার বা SIN হলো ৯ সংখ্যার একটি সরকারি পরিচয় নম্বর। কাজ করা, আয়কর জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের জন্য এই নম্বর প্রয়োজন হয়।
কানাডা সরকার জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই SIN সংগ্রহ করতে হবে।
নিয়ম ভাঙলে হতে পারে সমস্যা
কানাডা সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের দায়িত্ব হলো কাজ শুরুর আগে সব শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করা। অনুমোদন ছাড়া কাজ করলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নতুন নিয়মে কুইবেকের সেকেন্ডারি-লেভেল ভোকেশনাল প্রশিক্ষণার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ শিক্ষার্থী নয়, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীরাও কাজের সুযোগ পাবেন।
বাড়ছে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত
এর পাশাপাশি কানাডা স্টাডি পারমিট আবেদনকারীদের জন্য নতুন আর্থিক শর্তও ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে।
কানাডার নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
তবে শিক্ষার্থীদের কাজ শুরু করার আগে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



