আমিরাতে সাড়ে চার হাজার ভিসা বাতিল; বিপাকে প্রবাসীরা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাত হঠাৎ করে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে। ফলে ছুটিতে দেশে এসে অনেক প্রবাসী আর কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তবে ভিসা বাতিলের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে আমিরাতকে জানিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। বিপাকে পড়া প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানে সরকারকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
দেশে ফেরার পর অনেক প্রবাসী ই-মেইল বা মোবাইল ফোনে বার্তা পেয়ে ভিসা বাতিলের বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি সমস্যা নেই। এরপরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ নামের এক প্রবাসী জানান, তিনি ২৭ বছর ধরে আমিরাতে ছিলেন। ছুটিতে দেশে আসার পর হঠাৎ ই-মেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভিসা বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, “ই-মেইলে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।”
গত ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ করেন। এতে প্রায় ৩৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্বাসন, সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা এবং অন্য দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানা আছে। তিনি জানান, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর আমিরাতে ব্যবসা ও দোকান রয়েছে। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
পরে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ জনে।
ক্ষতিগ্রস্তরা মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচাই-বাছাই বাড়িয়েছে। সময়মতো ভিসা নবায়ন না করা বা কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তা কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও কর্মকাণ্ডও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এসব কারণই ভিসা বাতিলের জন্য সরাসরি দায়ী কি না, তা নিশ্চিত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইউএইতে যাচাই-বাছাইয়ের মাত্রা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করা।



