যুদ্ধে ইরানের হামলায় আমেরিকার ক্ষতি কত?

ডেল্টা আর্ন্তজাতিক

ডেল্টা আর্ন্তজাতিক

প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব হামলায় ৬০টি বিমানসহ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন আমেরিকান সেনাসদস্য দেশটির সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পরের কিছু ছবি সরবরাহ করেছেন। এসব ছবিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আমেরিকান সামরিক অবস্থানে হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

মোতায়েন থাকা এক আমেরিকান সেনাসদস্য বলেন, ‘আমাদের ঘাঁটিগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা আমেরিকান জনগণের কাছে জানানো হয়নি। আমরা যেন চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি।’

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির একটি ছবিতে বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের পেছনের অংশে সরাসরি হামলার চিহ্ন দেখা যায় বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। ছবিতে বিমানটির পোড়া মূল কাঠামো থেকে লেজের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে দেখা যায়।

বিমানঘাঁটির আরও কয়েকটি ছবিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ব্যারাকের পাশাপাশি কংক্রিটের ‘টি-ওয়াল’ প্রতিরোধক দেখা গেছে। এসব দেয়াল সাধারণত গ্রেনেড ও মর্টারের মতো হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।

কুয়েতের ক্যাম্প বিউরিংয়ের ছবিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। এটি আমেরিকান সেনাসদস্য, সাঁজোয়া যান এবং কিছু বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এসব ছবি প্রকাশের সময়ই আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক ইরান যুদ্ধের কারণে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের তালিকায় ৬০টি বিমানও রয়েছে বলে জানানো হয়।

কংগ্রেসে দেওয়া বাধ্যতামূলক প্রতিবেদনে মহাপরিদর্শক জানান, আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানি হামলা হয়েছে।

এর আগে ইরাকের শুয়াইবা বন্দরে ১ মার্চের হামলায় ছয় আমেরিকান সেনা নিহত হওয়ার পর আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলাকে ‘স্কোয়াটার’ বা ছোটখাটো অনুপ্রবেশকারী ধরনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে ওই আমেরিকান সেনাসদস্য এ ধরনের বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তার ভাষায়, এগুলো কোনো ‘স্কোয়াটার’ হামলা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা এসব ঘাঁটি রক্ষা করছি না। আমরা শুধু দেখছি, এগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’