স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী, ১২ বছর পর জীবিত মিলল সেই নারী
ডেল্টা আর্ন্তজাতিক
প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
১২ বছর আগে যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল, সেই নারীকে জীবিত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বামী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এখন নতুন করে শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের ভারতের বিহারের সেই হত্যা মামলার তদন্ত।
একই সঙ্গে সামনে এসেছে আরও একটি বড় প্রশ্ন—খাল থেকে যে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং যেটিকে শকুন্তলা দেবীর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটি আসলে কার?
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে বিহারের রোহতাস জেলার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন শকুন্তলা দেবী। তার ভাই পুলিশকে নিখোঁজের অভিযোগ জানিয়ে বলেছিলেন, যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হয়রানির কথা প্রায়ই বলতেন শকুন্তলা।
মামলা দায়েরের দুই দিন পর খান্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শকুন্তলার ভাই ও স্থানীয় এক কর্মকর্তা মরদেহটি শকুন্তলার বলে শনাক্ত করেন। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং মামলায় হত্যাসংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়।
এরপর শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, তার বাবা দিলীপ এবং ভাই গোবিন্দ কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অরুণ কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান।
তবে মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। পরিবারের দাবি, পরে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটিরও সমাপ্তি ঘটে।
পরিবারের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধ মেটাতে শকুন্তলার পরিবার ৮ লাখ রুপি দাবি করেছিল। মেহতা পরিবারের অভিযোগ, ওই অর্থ জোগাড় করতে তাদের পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়। এভাবে বছরের পর বছর মামলাটি মূলত এই ধারণার ওপর চলেছে যে শকুন্তলা মারা গেছেন।
অন্য রাজ্যে জীবিত অবস্থায় শনাক্ত
এরপর প্রায় দুই মাস আগে ঘটনাটিতে নাটকীয় মোড় আসে। পরিবারের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, শকুন্তলার শ্বশুর জানতে পারেন, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে তাকে দেখা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে ওই নারীকে শনাক্ত করার দাবিও করেন। পরে তারা রোহতাস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার লাভারি গ্রামে ওই নারীকে খুঁজে পায় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তিনি কান্তি দেবী নামে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
পরে তাকে রোহতাসে ফিরিয়ে এনে সাসারামের একটি আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।
খাল থেকে উদ্ধার মরদেহটি কার ছিল?
শকুন্তলাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় আগের ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন তদন্তকারীদের প্রধান কাজ ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে কীভাবে ওই মরদেহকে শকুন্তলার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শকুন্তলার ভাই কেন ওই মরদেহকে তার বোনের বলে শনাক্ত করেছিলেন, তা তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে কোনো অনিয়মের সঙ্গে কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



