সারা দেশে বৈধ-অবৈধ ইটভাটার তালিকা করবে পরিবেশ অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

সারা দেশে বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সাথে অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

সরকারি নির্মাণকাজে পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, মো. আব্দুল মান্নান ও সুলতানা জেসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের কারণে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারি নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশ দূষণ কমাতে নির্মাণকাজে পোড়ামাটির ইটের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুপারিশও করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যাতে অর্থায়ন না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হবে। এ জন্য কমিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া দেশে বর্তমানে কতগুলো বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার ভিত্তিতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিটি।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ১০১টি প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কমিটির সামনে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১৬ বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে কমিটি। বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনাও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।