যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে উদ্বেগ, বাংলাদেশিদের আবেদন প্রত্যাহার ২৩.৫ শতাংশ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ব্রিটিশ সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধের কারণে শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ায় সতর্কতা বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থী ভিসার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে আবেদন প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে আবেদন প্রত্যাহার এবং ভিসা প্রত্যাখ্যান এক বিষয় নয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পন্সরশিপ প্রত্যাহার করলে কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আবেদন প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে গত ৪ জুন নতুন কঠোর শর্তের ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। আগে এ সীমা ছিল ১০ শতাংশ। পাশাপাশি ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি এবং ৯০ শতাংশ কোর্স সম্পন্নের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পন্সর লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম থেকে ‘ট্রাফিক-লাইট’ নামে নতুন মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের দাবি, শিক্ষার্থী ভিসার সুযোগ ব্যবহার করে আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতা কমাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আশ্রয়ের আবেদন এক বছরে ৩০ শতাংশ কমেছে বলেও জানিয়েছে সরকার।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য শাস্তি এড়াতে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে যেসব দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি, সেসব দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কমানো কিংবা আগে দেওয়া অফার লেটার প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপও নিচ্ছে কিছু প্রতিষ্ঠান।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগকারী সংস্থা ‘ইউনিভার্সিটিজ ইউকে ইন্টারন্যাশনাল’-এর পরিচালক জেমি অ্যারোস্মিথের মতে, হোম অফিসের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে অনিশ্চয়তা ও অসংগতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাপের মুখে রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে স্পন্সর লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগেভাগেই ভর্তি প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া ১২ মাসে ‘স্টুডেন্ট’ ও ‘চাইল্ড স্টুডেন্ট’ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪টি ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে। একই সময়ে ২০ হাজার ৩৯৯টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১ হাজার ৫০০টি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন সরাসরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাজ্যে পড়তে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং ভিসার নিয়মকানুন ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।



