প্যারিসে বাংলাদেশিদের ৮ দোকানে লুটপাট
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ ও নৈরাজ্যের সুযোগে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি করেছেন ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। এসব দোকানে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবাও দেওয়া হতো।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগতভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে বারবার ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী ছিল। লুটপাটের ঘটনায় সব হারিয়ে এখন ব্যবসা আবার শুরু করার মতো সম্বল নেই বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, দুটি দোকান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন তিনি। একটি প্রতিষ্ঠানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ ছিল বলেও জানান আজিম উদ্দিন।
প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের নৈরাজ্য ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিকে আরও জোরালো করতে পারে।
এদিকে, প্যারিসের ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান জানান, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকান রক্ষায় ব্যক্তিগত পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। এরপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
তবে বাংলাদেশি দোকানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লুটপাটের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাবও এখনো পাওয়া যায়নি।
সূত্র: কালের কণ্ঠ।



