নতুন পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত পর্যায়ে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য থাকলেও একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের একটি বড় অংশ সমন্বয় করা হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ বাস্তবায়নের চিন্তা রয়েছে। তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোতে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পাশাপাশি বেতন বৈষম্য কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের বেতনও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনার বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় পেনশনভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ কমিটি। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে নতুন পে স্কেল নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে বেতন বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং ভাতার কাঠামো সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্টদের সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।