একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬

একীভূত শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন থেকে চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিশেষ স্কিমের শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে শুধু আমানতকারীর নিজের চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও এখন বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন এবং স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে।

সুবিধাটি পাচ্ছেন একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের গ্রাহকরা। ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে সংশোধনী এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি পারিবারিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

পর্ষদ সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসার বাইরেও অনেক সময় মেয়ের বিয়ে বা পরিবারের অন্য সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই গ্রাহকদের জন্য সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে জামানত ছাড়াই হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

এ পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। নবগঠিত ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দেয় এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে আমানত বীমা তহবিল থেকে দেওয়া ১২ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর শেষে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।