মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬
মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘Trapped Behind the Scam: Ending Human Trafficking for Forced Criminality’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। অপরাধীরা ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে।
তিনি জানান, অনেক ভুক্তভোগীকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’-এ অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এতে প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অংশীদারত্ব—এই চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং ভুয়া নিয়োগ চক্র সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।



