মোসাদ্দেক-নাহিদের জুনে মিরপুরে বাংলাদেশের রূপকথা

২১ বছর পর ‘অস্ট্রেলিয়া বধ’

খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬

১৮ জুন ২০০৫; কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেই অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরি আর রিকি পন্টিংয়ের মহাশক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর গল্প এতদিন ছিল ওয়ানডেতে অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র রূপকথা।  দীর্ঘ ২১ বছর পর, আরেকটি জুনেই সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটলো।  মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আর পেসার নাহিদ রানার আগুনে গতিতে চূর্ণ হলো অস্ট্রেলিয়া।  ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানের ঐতিহাসিক এক জয় পেল বাংলাদেশ।

মোসাদ্দেকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

প্রায় ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরে দিনটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত বানিয়ে নিলেন মোসাদ্দেক হোসেন।  টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতে সাইফ হাসানের উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান তামিম (৫৪) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর (৬৭) জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে শক্ত ভিত পায়।  তবে মিডল অর্ডারে আসল ঝড় তোলেন মোসাদ্দেক।  ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে খেলেন ৮৬ রানের এক অপরাজিত ও দায়িত্বশীল ইনিংস।  তাঁর এই ক্যামিওতেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

নাহিদ রানার গতি আর মোসাদ্দেকের স্পিন ধস

২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংসের শুরুতেই কাঁপিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসাররা।  প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শট এবং দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে ফেরেন মারনাস লাবুশেন।

শুরুর সেই ধাক্কা অস্ট্রেলিয়া আর সামলে উঠতে পারেনি গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানার কারণে।  অজি ব্যাটারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান খরচায় একাই ৪ উইকেট শিকার করেন এই স্পিডস্টার।  বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন মোসাদ্দেক; ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।  মুস্তাফিজুর রহমানও ২৪ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট।

বৃষ্টি ও বজ্রপাতের বাগড়া, অতঃপর ডিএলএস-এ জয়

মিরপুরের সবুজাভ উইকেটে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়া যখন ৪২.২ ওভারে ১৯১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের দ্বারপ্রান্তে, তখনই মিরপুরের আকাশে তীব্র বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হয়।  এরপর আর একটি বলও মাঠে না গড়ানোয় ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করেন।  অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যামেরন গ্রিন ৫২* এবং অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ রান করলেও তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

ব্যাট ও বলে অনবদ্য অবদানের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।  এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।  সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই মিরপুরেই অনুষ্ঠিত হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮)।

  • অস্ট্রেলিয়া: ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (গ্রিন ৫২*, ক্যারি ৪৭, কনোলি ৩৫; নাহিদ ৪/৪১, মুস্তাফিজ ২/২৪, মোসাদ্দেক ২/৩৭)।

  • ফল: ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী।