তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরল বৈঠকে বসছে ইইউ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬
ফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরল এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইইউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নিতে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল ইউরোপে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক তালেবান কর্মকর্তা।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে ইউরোপে অবস্থানরত আফগান অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যাবাসন। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের বড় একটি অংশই আফগান নাগরিক। অনেক ইউরোপীয় দেশ এখন যেসব আফগানের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে বা যারা অপরাধে জড়িত, তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে বৈঠকটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, তালেবান সরকারের সঙ্গে এমন যোগাযোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকারবিষয়ক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং আফগান নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে তালেবানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করছে, অন্যদিকে আফগানদের ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, যা তাদের অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশ এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও ব্রাসেলসের এই বৈঠক দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে তালেবানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তালেবান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখিও রয়েছেন।
এদিকে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো স্পষ্ট করেছেন, তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুরোধে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সীমিত ভিসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া বা বৈধতা প্রদানের সমতুল্য নয়।
বেলজিয়াম জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষে তালেবান প্রতিনিধিদের ২৪ ঘণ্টার সীমিত ভিসা দেওয়া হয়েছে। এই ভিসার আওতায় তারা শুধু বেলজিয়ামে অবস্থান করতে পারবেন এবং শেঙ্গেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেলজিয়াম—দুই পক্ষই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় বৈঠকটি কোনো সরকারি ভবন বা আনুষ্ঠানিক স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে একাধিকবার মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।



