হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নিতে শুরু

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে জানান, ইরান, ওমান, সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শিল্পের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, “নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ নৌচলাচলের পরিবেশও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এতে শত শত জাহাজ এবং হাজারো নাবিক দীর্ঘ সময় ধরে জলপথে আটকা পড়েন।

তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। কেপলার শিপিং ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইএমওর পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজ ও নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে। ডেনমার্ক জানিয়েছে, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে তারা যোগ দেবে।

অন্যদিকে, ওমান ও ইরান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি পুনরায় চালু করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।