জাতীয় সংসদ

উন্নয়ন চাইলে বড় বাজেট মেনে নিতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে হলে বড় বাজেটকে গ্রহণ করতে হবে। সবাই নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বাজেট বড় হলে সমালোচনা করেন। উন্নয়ন চাইলে তার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দও মেনে নিতে হবে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসায় যদি ডাল-ভাতের বাজেট করা হয়, অথচ খেতে চাওয়া হয় বিরিয়ানি—তাহলে তা সম্ভব নয়। একইভাবে উন্নয়ন করতে হলে বড় বাজেটের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট সময়োপযোগী, মানবিক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন। বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতি, শিক্ষা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এ বাজেট প্রণয়ন করেছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, সড়ক ও উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানাচ্ছেন। এতে প্রমাণ হয়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে ইয়াসের খান বলেন, একসময় যারা এসব কর্মসূচির সমালোচনা করেছিলেন, তারাই এখন এই সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাওয়া ৪০ লাখ পরিবার উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি এ অর্থ স্থানীয় বাজারে ব্যয় হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিও গতিশীল হবে।

তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবার দেশের বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব ৪৭ কোটি টাকায় কেনার পর বেসরকারি খাতে বিক্রির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রায় বিনা মূল্যেই দেশের মানুষ বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রচারস্বত্বকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে তথ্য মন্ত্রণালয় সফল হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে।