বর্ষায় রোদেলা ছুটি

জুলাইয়ে ঘুরে আসতে পারেন বৃষ্টিহীন ৫ গন্তব্য

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬

বাংলাদেশে জুলাই মানেই টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা আর ভ্যাপসা আবহাওয়া। তবে এই সময়েই ভারতের কিছু পাহাড়ি অঞ্চল থাকে তুলনামূলক শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল। হিমালয়ের ‘রেইন-শ্যাডো’ অঞ্চলে অবস্থিত এসব গন্তব্যে বর্ষার প্রভাব খুবই কম। ফলে যারা বর্ষার মাঝেও পাহাড়, নীল আকাশ ও নির্মল প্রকৃতির স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য এগুলো হতে পারে আদর্শ ভ্রমণস্থান।

বাংলাদেশ থেকে সহজে পৌঁছানো যায় এমন পাঁচটি গন্তব্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো—

১. লেহ-লাদাখ

হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালার মাঝে অবস্থিত লাদাখকে বলা হয় ভারতের অন্যতম রোমাঞ্চকর পর্যটন অঞ্চল। জুলাইয়ে এখানে বৃষ্টিপাত খুবই কম থাকে। নীল আকাশ, রুক্ষ পাহাড়, স্বচ্ছ হ্রদ ও প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ মিলিয়ে লাদাখের সৌন্দর্য ভিন্ন মাত্রা পায়।

দর্শনীয় স্থান: প্যাংগং লেক, নুব্রা ভ্যালি, ম্যাগনেটিক হিল, থিকসে ও হেমিস মনাস্ট্রি।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে দিল্লি বা কলকাতা হয়ে লেহতে ফ্লাইট পাওয়া যায়।

২. স্পিতি ভ্যালি

হিমাচল প্রদেশের স্পিতি ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। ‘লিটল তিব্বত’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি শান্ত পরিবেশ, তিব্বতি সংস্কৃতি এবং প্রাচীন বৌদ্ধ মঠের জন্য জনপ্রিয়।

দর্শনীয় স্থান: কাজা, কি মনাস্ট্রি, তাবো মনাস্ট্রি, হিক্কিম, কোমিক ও চিচাম ব্রিজ।

যেভাবে যাবেন: দিল্লি বা চণ্ডীগড় হয়ে সড়কপথে স্পিতি পৌঁছানো যায়।

৩. তাওয়াং

অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। জুলাই মাসে এখানকার আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে। পাহাড়, হ্রদ এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।

দর্শনীয় স্থান: তাওয়াং মনাস্ট্রি, সেলা পাস, মাধুরী লেক, বুমলা পাস ও জং জলপ্রপাত।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে গুয়াহাটি হয়ে সড়কপথে তাওয়াং। বাংলাদেশি পর্যটকদের ভারতীয় ভিসার পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশের জন্য বিশেষ পারমিট প্রয়োজন।

৪. লাহাউল ভ্যালি

অটল টানেল পার হলেই শুরু হয় লাহাউল উপত্যকা। বর্ষার সময়ও এখানে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক ও আরামদায়ক থাকে। প্রকৃতিপ্রেমী ও অফবিট ভ্রমণকারীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।

দর্শনীয় স্থান: সিসু জলপ্রপাত, কেলং, জিসপা, সুরাজ তাল, দীপক তাল ও বারালাচা লা।

যেভাবে যাবেন: দিল্লি হয়ে মানালি, এরপর সড়কপথে লাহাউল।

৫. কিন্নর

হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলা আপেল বাগান, তুষারাবৃত পর্বত এবং শান্ত পাহাড়ি পরিবেশের জন্য পরিচিত। বর্ষার সময়ও এখানকার আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূলে থাকে।

দর্শনীয় স্থান: কল্পা, সাংলা ভ্যালি, চিতকুল, রেকং পেও ও কিন্নর কৈলাশ।

যেভাবে যাবেন: দিল্লি বা চণ্ডীগড় থেকে সড়কপথে কিন্নর যাওয়া যায়।

বাংলাদেশি পর্যটকদের যা জানা জরুরি

ভারত ভ্রমণের জন্য বৈধ ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা প্রয়োজন। লাদাখ, স্পিতি, লাহাউল ও কিন্নরে আলাদা কোনো পারমিটের প্রয়োজন হয় না (কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় পারমিট লাগতে পারে)। তবে তাওয়াং ভ্রমণে অতিরিক্ত Protected Area Permit (PAP) নিতে হয়।

সম্ভাব্য খরচ

ঢাকা থেকে এসব গন্তব্যে ৬ থেকে ৮ দিনের একটি ভ্রমণে বিমানভাড়া, হোটেল, স্থানীয় পরিবহন ও খাবার মিলিয়ে জনপ্রতি আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। আগে থেকে টিকিট ও হোটেল বুকিং করলে খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব।

বর্ষার একঘেয়েমি কাটিয়ে যদি নীল আকাশ, পাহাড়ি প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশে কয়েকটি দিন কাটাতে চান, তাহলে জুলাই মাসে ভারতের এই পাঁচটি গন্তব্য হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনার সেরা পছন্দ।