প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে নকল ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। সোমবার পরিচালিত এ পরীক্ষাকে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ বলে দাবি করেছে বেইজিং। তবে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএ নেভি) স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে নকল ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের একটি নির্ধারিত জলসীমায় গিয়ে পড়ে। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বেইজিং।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে এ পরীক্ষা চালানো হয়নি।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে চীন আগেই ক্যানবেরাকে অবহিত করেছিল। তবে তিনি বলেন, দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে থাকা চীনের এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ। একই সঙ্গে তিনি বেইজিংয়ের সামরিক কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
ফিজির রাজধানী সুভায় এক সংবাদ সম্মেলনে পেনি ওয়ং বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলো চীনের কাছ থেকে তাদের সামরিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও আশ্বাস প্রত্যাশা করে।
অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি দেশ হামলার শিকার হলে অপর দেশ সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে চীনের সর্বশেষ সামরিক পরীক্ষা অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
নিউজিল্যান্ডভিত্তিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্টারবোর্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক মার্ক ডগলাস বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির নতুন প্রতিরক্ষা জোট ঘোষণার পরপরই এ বিষয়ে চীনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার সময়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা উচিত এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিচালনা করা উচিত নয়।
সূত্র: রয়টার্স



