পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬
পর্তুগালের পার্লামেন্ট জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন একটি আইন পাস করেছে। আইনটি পাস হওয়ার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর সমালোচনা করেছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে এমন কোনো পোশাক বা আবরণ ব্যবহার করা যাবে না, যাতে পুরো মুখ ঢেকে যায়। আইনটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে এবং এখন তা কার্যকর হওয়ার জন্য পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই আইন বিশেষ করে মুখ ঢেকে চলাফেরা করা মুসলিম নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংগঠনটির মতে, পোশাক নির্বাচন ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ এবং এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সমালোচকদের দাবি, আইনটি কার্যকর হলে কিছু নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা বিক্ষোভে নিরাপত্তাজনিত কারণে মুখ ঢেকে রাখার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।
অন্যদিকে, আইনটির সমর্থকরা বলছেন, জননিরাপত্তা জোরদার, পরিচয় যাচাই সহজ করা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা প্রেসিডেন্টের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, আইনটি পর্তুগালের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সাংবিধানিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
পর্তুগালে নতুন এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর বাস্তবায়ন এবং সম্ভাব্য প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে।



