অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়ায় ইইউর সামুদ্রিক উদ্ধার কেন্দ্র
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৬
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইতালি ও মাল্টার অর্থায়নে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে একটি সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র (এমআরসিসি) স্থাপন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার লিবিয়ায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত নিকোলা অরলান্ডো এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অরলান্ডো জানান, ইইউর সামরিক কার্যক্রম আইআরআইএনআই-এর আওতায় কেন্দ্রটি স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। মাল্টার প্রতিনিধি এবং লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের সেক্রেটারি জেনারেল খায়েরি তামিমির সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বেনগাজিতে এমআরসিসি স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রটি ইউরোপমুখী অভিবাসীবাহী নৌকা শনাক্ত ও উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করবে। উদ্ধার করা অভিবাসীদের আবার লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ইইউ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে লিবিয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আইআরআইএনআই মিশন ২০২০ সালে শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন তদারকি করা। পরে অবৈধ তেল পাচার এবং মানব পাচার প্রতিরোধও এ মিশনের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হয়। এ কর্মসূচির আওতায় লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষী ও নৌবাহিনীর সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তাদের দাবি, লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষীদের সক্ষমতা বাড়ানো হলে আরও বেশি অভিবাসীকে বাধা দেওয়া হতে পারে এবং অনেককে জোর করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। সেখানে ফেরত যাওয়া অভিবাসীরা নির্বিচারে আটক, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাগুলো।
লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান রুট। দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে মানব পাচারকারী চক্র বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ পথে প্রতিবছর বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
ইইউ বর্তমানে ত্রিপলিভিত্তিক জাতীয় ঐক্য সরকারকে সমর্থন দিলেও এবার পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইইউর কর্মকর্তাদের মতে, মানব পাচার প্রতিরোধ, সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান জোরদার এবং ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি কমাতে লিবিয়ার উভয় পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অভিবাসীদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।



