ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যে আমেরিকার ভিসা ঝুঁকিতে
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৬
আমেরিকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যারা ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা সহিংসতা উসকে দেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
রুবিও এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। তার ভাষায়, যারা ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় বা সহিংসতাকে উৎসাহিত করে, তাদের জন্য আমেরিকার দরজা বন্ধ থাকবে।
এই ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে—ইসরায়েলের সমালোচনা করলে কি আমেরিকা ভিসা দেবে না? রুবিও দাবি করেছেন, ইসরায়েলবিরোধী কিছু উগ্র বক্তব্য প্রায়ই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রচারসামগ্রীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই ইসরায়েল ঘিরে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকাও ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, আমেরিকা এখনো ‘আব্রাহাম চুক্তি’ আরও বিস্তারের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আশা করছে। তার মতে, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন ভিসানীতি কার্যকর হলে বিদেশি নাগরিকদের জন্য আমেরিকায় প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে যারা ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দেন বা ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ান, তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ ধরনের নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আমেরিকা সরকার মনে করছে, ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ইসরায়েলের সমালোচনা আর ইহুদিবিদ্বেষকে এক করে দেখলে তা রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে। আবার অন্যরা বলছেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া আমেরিকার জন্য প্রয়োজনীয়।



