অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা কমানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা কমানোর প্রস্তাব নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও আবাসন সংকট, বাড়তি ভাড়া এবং নাগরিক সেবার ওপর চাপের কারণ দেখিয়ে অভিবাসন সীমিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

কট্টর ডানপন্থি ‘ওয়ান নেশন’ দলের নেতা পলিন হ্যানসন বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য আসেন। তাই পরিবারের সাথে থাকতে চাইলে নিজ দেশে থেকেই অনলাইনে পড়াশোনা করা উচিত।

অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ জোট স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করার দাবি জানিয়েছে।

ক্ষমতাসীন লেবার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে আইনি পদক্ষেপ নিলেও তা সংসদের উচ্চকক্ষে আটকে যায়। তবে সরকার ইতোমধ্যে প্রকৃত শিক্ষার্থী যাচাই জোরদার, ইংরেজি ভাষায় ন্যূনতম দক্ষতার মান বাড়ানো এবং ব্যাংকে প্রদর্শনযোগ্য অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর মতো নতুন শর্ত কার্যকর করেছে।

এই নীতি পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, পরিবারের সদস্যদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়বে এবং অনেকেই পড়াশোনার জন্য বিকল্প দেশ বেছে নেবেন।

সিডনির ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু অর্থ ব্যয় করেন না, তারা কঠোর পরিশ্রম করে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। পরিবারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা অন্য দেশে চলে যাবেন।”

সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিনা রহমান বলেন, “দীর্ঘ সময় পড়াশোনার সময়ে মানসিক সমর্থনের জন্য পরিবারের পাশে থাকা জরুরি। জীবনসঙ্গীকে সাথে আনার সুযোগ না দিলে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়বেন।”

অস্ট্রেলিয়া সরকার বলছে, উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখা এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে অভিবাসন নীতিতে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন।

তবে শিক্ষা খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে অস্ট্রেলিয়ার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদেশি শিক্ষার্থী কমে গেলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় এবং দেশটির অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।