ইউরোপে কম খরচে উচ্চশিক্ষা, আইসল্যান্ডে রয়েছে কাজেরও সুযোগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬

ইউরোপের নর্ডিক দেশগুলোর একটি আইসল্যান্ড। উন্নত জীবনযাত্রা, শক্তিশালী অর্থনীতি ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষা, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ এবং ডিগ্রি শেষে চাকরি খোঁজার সুযোগ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও আইসল্যান্ড হতে পারে বিবেচনাযোগ্য একটি গন্তব্য।

আইসল্যান্ডে পড়াশোনার সুযোগ

দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি কোর্স ও ডিপ্লোমা প্রোগ্রামও চালু আছে।

আইসল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা, অর্থনীতি, আইন, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ফার্মাসি, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, জীববিজ্ঞান, পর্যটন ও আতিথেয়তা, নার্সিং, চারুকলা, চলচ্চিত্র, মাল্টিমিডিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আইসল্যান্ডে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বৈধ স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটধারীরা আলাদা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই পড়াশোনার সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ফুল-টাইম কর্মঘণ্টার সমপরিমাণ কাজ করতে পারেন। নির্ধারিত একাডেমিক বিরতিতে ফুল-টাইম কাজেরও সুযোগ রয়েছে।

তবে কাজের সুযোগ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। আইসল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের খরচ চালানোর জন্য প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৫৯,৯৫১ আইসল্যান্ডিক ক্রোনা সমপরিমাণ আর্থিক সামর্থ্য দেখাতে হয়।

ডিগ্রি শেষে চাকরি খোঁজার সুযোগ

আইসল্যান্ডের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে বিশেষ রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে এই সুযোগকে সরাসরি স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা যোগ্যতা ও সময়ের শর্ত পূরণ করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা

ব্যাচেলর পর্যায়ে আবেদন করতে হলে সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সম্পন্ন থাকতে হয়। মাস্টার্সে আবেদনের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি।

ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। IELTS, TOEFL বা অন্য কোনো স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোরের প্রয়োজনীয়তা প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় স্কোর দেখে আবেদন করা উচিত।

আইসল্যান্ডে কেন্দ্রীয় কোনো একক ভর্তি ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরাসরি আবেদন করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে, ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ডের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—

  • শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র
  • পাসপোর্ট
  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনপত্র
  • অফার লেটার বা ভর্তির প্রমাণপত্র
  • আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ
  • প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • অন্যান্য সহায়ক নথি

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা হতে পারে।

টিউশন ফি কত?

আইসল্যান্ডে পড়াশোনার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে টিউশন ফি না থাকলেও রেজিস্ট্রেশন বা প্রশাসনিক ফি দিতে হয়।

ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ডে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি ১ লাখ আইসল্যান্ডিক ক্রোনা। EEA/EFTA-এর বাইরের আবেদনকারীদের জন্য ২০ হাজার আইসল্যান্ডিক ক্রোনার প্রসেসিং ফিও রয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আইসল্যান্ড সরকার EEA/EFTA ও সুইজারল্যান্ডের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের Autumn semester থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টিউশন ফি চালুর অনুমতি দিয়েছে। ফি কত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হতে পারে। ২০২৬ সালের Autumn semester থেকে পড়াশোনা শুরু করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নতুন টিউশন ফি প্রযোজ্য হবে না।

স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট

আইসল্যান্ডে পড়তে যেতে হলে আগে স্বীকৃত পূর্ণকালীন শিক্ষাক্রমে ভর্তি হতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়।

আইসল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, Fall semester-এর জন্য সাধারণত ১ মে এবং Spring semester-এর জন্য ১ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ক্লাস শুরুর আগে পারমিট পাওয়ার সময় থাকে।

আইসল্যান্ডের উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়

দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—

  • অ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ড
  • বিফরোস্ট ইউনিভার্সিটি
  • হোলার ইউনিভার্সিটি
  • আইসল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস
  • রেইকিয়াভিক ইউনিভার্সিটি
  • ইউনিভার্সিটি অব আকুরেরি
  • ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ড

তবে ভর্তির আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বীকৃত কি না, কোন প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেয়, টিউশন ও অন্যান্য ফি কত এবং আবেদন ও ভিসার সর্বশেষ নিয়ম কী—এসব অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসল্যান্ডের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা উচিত।

সবদিক বিবেচনায়, ইউরোপে তুলনামূলক ভিন্নধর্মী পরিবেশে উচ্চশিক্ষা, পড়াশোনার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ এবং ডিগ্রি শেষে চাকরি খোঁজার সুযোগ বিবেচনা করলে আইসল্যান্ড আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য হতে পারে। তবে খরচ, আবাসন, আবহাওয়া, ভিসার শর্ত এবং ভবিষ্যৎ টিউশন ফি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।