জনস্বাস্থ্য পেশাজীবীদের জন্য হার্ভার্ডে সম্পূর্ণ অর্থায়িত ফেলোশিপ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
জনস্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে সম্পূর্ণ অর্থায়িত ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ‘হার্ভার্ড লিড ফেলোশিপ’-এ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কর্মরত যোগ্য পেশাজীবীরা আবেদন করতে পারবেন। এক বছর মেয়াদি এ কর্মসূচিতে অনলাইন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে ছয় সপ্তাহের আবাসিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট (এইচজিএইচআই) এবং হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন বিভাগ যৌথভাবে এ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (আমেরিকার ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম)। নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম ২০২৭ সালের বসন্তে প্রকাশ করা হবে।
ফেলোশিপের মেয়াদ ও সুযোগ-সুবিধা
কর্মসূচিটি শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট। এ সময়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত নেতৃত্ববিষয়ক পরামর্শ, হার্ভার্ডের শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, মেন্টরশিপ, বিশেষ কোর্স, মাস্টারক্লাস ও পেশাগত যোগাযোগ তৈরির কার্যক্রম থাকবে।
২০২৮ সালের এপ্রিলে কেমব্রিজে ছয় সপ্তাহের আবাসিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন, নির্বাহী শিক্ষা কার্যক্রম, কর্মশালা ও দলগত কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
ফেলোশিপের আওতায় আবাসিক প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক বিমানভাড়া, আবাসন, ভিসা ফি, কোর্সের খরচ এবং খাবার ও যাতায়াতসহ দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য ভাতা দেওয়া হবে।
আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে—
১. সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
২. জনস্বাস্থ্য খাতে পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে হবে।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট পেশায় অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অর্জিত কাজের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গণনা করা হবে না।
৪. নেতৃত্ব দেওয়ার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দক্ষতা আরও বিকাশের সম্ভাবনা থাকতে হবে।
৫. নিজ প্রতিষ্ঠানের সমর্থন থাকতে হবে। আবাসিক প্রশিক্ষণের ছয় সপ্তাহ কর্মস্থল থেকে ছুটি বা সমমানের বিরতি নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. আমেরিকার জে-১ ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং ২০২৮ সালের এপ্রিলে ছয় সপ্তাহ কেমব্রিজে অবস্থান করতে সক্ষম হতে হবে।
৭. ফেলোশিপ শুরুর আগের দুই বছরের মধ্যে চার মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোনো পূর্ণকালীন ফেলোশিপে অংশ নেওয়া যাবে না।
৮. আবেদনকারীকে বর্তমানে নিম্ন বা মধ্যম আয়ের কোনো দেশে বসবাস বা কাজ করতে হবে এবং ফেলোশিপ শেষে সেই দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন অঞ্চল, পেশা, শিক্ষাগত শাখা ও খাতের যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কর্মসূচিটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিলেও যোগ্য সব লিঙ্গপরিচয়ের প্রার্থীর জন্য আবেদন উন্মুক্ত।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনকারীদের হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), সর্বোচ্চ দেড় পৃষ্ঠার একটি অভিপ্রায়পত্র, নির্ধারিত চারটি বিষয়ে প্রবন্ধ, নিজ প্রতিষ্ঠানের সমর্থনপত্র, একজন মেন্টরের প্রতিশ্রুতিপত্র এবং দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। চারটি প্রবন্ধের প্রতিটির দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ দুই হাজার অক্ষর হতে পারবে।
অভিপ্রায়পত্রে জনস্বাস্থ্য খাতে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ফেলোশিপটি কীভাবে নিজ প্রতিষ্ঠান ও দেশের কাজে আসবে, তা তুলে ধরতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনপত্রে আবাসিক প্রশিক্ষণের সময় ছুটির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহীদের প্রথমে হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটে দেওয়া আবেদন লিংকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিসহ আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদনের শেষ সময়: ১৫ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম)।
ফেলোশিপের মেয়াদ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৮।
ফলাফল প্রকাশ: ২০২৭ সালের বসন্তকাল।
বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের জন্য: হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট



