অভিবাসীদের ‘ভালো আচরণ’ আইন পাস করল সুইডেন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬

সুইডেনে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আরও কঠোর আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।  নতুন আইনে ‘গুড বিহেভিয়ার’ বা ‘ভালো আচরণ’কে বসবাসের অনুমতি বজায় রাখার অন্যতম শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।  এর ফলে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে অভিবাসীদের রেসিডেন্সি পারমিট বাতিল করা যেতে পারে।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে সুইডিশ পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে আইনটি পাস হয়।  আগামী সেপ্টেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার অভিবাসন নীতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল।

নতুন আইনটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনকারীদের জন্য নয়, বর্তমানে সুইডেনে বসবাসরত অনেক বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।  চলতি বছরের মার্চে বিলটি উপস্থাপনের সময় দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফরসেল বলেছিলেন, “যারা সঠিক কাজ করার চেষ্টা করে না, তাদের সুইডেনে থাকার অধিকার থাকা উচিত নয়।”

তবে আইনটিতে কোন ধরনের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।  এর আগে সুইডিশ সরকার ঋণ পরিশোধ না করা, কর ফাঁকি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা কিংবা উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে সম্ভাব্য বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

রেসিডেন্সি পারমিট পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব থাকবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির ওপর।  তবে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও থাকবে।

একই দিনে পার্লামেন্ট অল্প ভোটের ব্যবধানে আরেকটি বিতর্কিত আইনও পাস করেছে।  ১৭৪ ভোটে পাস হওয়া এই আইনের বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭২টি।  সমালোচকদের কাছে এটি ‘স্নিচ ল’ বা ‘গুপ্তচর আইন’ নামে পরিচিত।

আইনটি কার্যকর হলে কর কর্তৃপক্ষ, কর্মসংস্থান সংস্থা এবং সামাজিক বীমা সংস্থার অনেক কর্মচারীকে এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশকে জানাতে হবে, যাদের তারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সুইডেনে অবস্থান করছেন বলে সন্দেহ করেন।  তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজকর্মীদের এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন দুটি আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।  তাদের মতে, ‘ভালো আচরণ’ আইনের মানদণ্ড যথেষ্ট স্পষ্ট নয় এবং এর অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।  মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এর ফলে এমন আচরণের কারণেও কারও বসবাসের অনুমতি বাতিল হতে পারে, যা সুইডিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে অবৈধ বা শাস্তিযোগ্য নয়।

স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিভিল রাইটস ডিফেন্ডারসের মতে, আইনটি মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করতে পারে।

গবেষক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন বিধান অনিয়মিত অভিবাসীদের আরও প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে।  তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও অনেক অভিবাসী ভয় পেতে পারেন।

তবে সুইডিশ সরকারের দাবি, যেসব ব্যক্তি আইনগতভাবে দেশটিতে থাকার অধিকার রাখেন না, তাদের শনাক্ত ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন।  সরকারের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।