ভিসা আবেদনে সতর্কতা

যুক্তরাজ্যের নতুন নিয়মে ৩ শ্রেণির আবেদনকারী ঝুঁকিতে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করতে নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (UK Home Office) ও যুক্তরাজ্য ভিসা ও ইমিগ্রেশন (UKVI)-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে তিন ধরনের আবেদনকারী এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। আবেদনপত্রে অসত্য তথ্য, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন কিংবা নির্ধারিত ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরির আওতায় পড়লে ভিসা না পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

১. ‘ইমার্জেন্সি ভিসা ব্রেক’ নীতির আওতাভুক্ত দেশের আবেদনকারী

যুক্তরাজ্য সরকার ‘Emergency Visa Brake’ নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে বৈধ ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয় (Asylum) আবেদনের হার বেড়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বর্তমানে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের বিদেশ থেকে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে আফগান নাগরিকদের জন্য স্কিল্ড ওয়ার্কার (Skilled Worker) ভিসাও স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।

২. ব্যাংকে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা

ভিসা আবেদন মূল্যায়নের সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক লেনদেন আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে UKVI।

আবেদনের ঠিক আগে ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ বড় অঙ্কের অর্থ জমা দিলে সেটিকে ‘Funds Parking’ হিসেবে সন্দেহ করা হতে পারে। অর্থের বৈধ উৎস, নিয়মিত আয় ও লেনদেনের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিতে না পারলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে।

৩. নিজ দেশের সঙ্গে দুর্বল সম্পর্ক বা ভুল তথ্য

ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা যাচাই করেন। স্থায়ী চাকরি, ব্যবসা, সম্পত্তি কিংবা পারিবারিক দায়বদ্ধতার পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে আবেদন নাকচ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ ছাড়া আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়া, তথ্য গোপন করা বা জাল নথি জমা দেওয়ার প্রমাণ মিললে শুধু ভিসা বাতিলই নয়, গুরুতর ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা (Deception Ban) জারি হতে পারে।

আবেদনকারীদের যা করা উচিত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা আবেদন করার আগে সব তথ্য ও নথি ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। ব্যাংক হিসাবের অর্থের বৈধ উৎসের প্রমাণ, সঠিক কাগজপত্র এবং সত্য তথ্য উপস্থাপন করলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।