সার্কভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৬

সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের (ফুল-ফান্ডেড) বৃত্তি চালুর ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাথমিকভাবে নেপালের শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ধুমবারাহিতে অবস্থিত ন্যাশনাল কলেজে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি কলেজ এবং প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক শিক্ষার্থী মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্তসংখ্যক পেশাদার মনোবিজ্ঞানী তৈরি এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, দেশে বর্তমানে কাউন্সেলিং, অ্যাপ্লাইড ও সোশ্যাল সাইকোলজিস্টের তীব্র সংকট রয়েছে। বর্তমান চাহিদা পূরণে অন্তত ৩০ হাজার মনোবিজ্ঞানী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র প্রায় ৩০০ জন। এ সংকট দূর করতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং সেবা চালু এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অচ্যুত ওয়াগল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।