ইমরান খানকে ‘ধীরে ধীরে হত্যা’ করা হচ্ছে

ডেল্টা আর্ন্তজাতিক

ডেল্টা আর্ন্তজাতিক

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে ‘ধীরে ধীরে হত্যা করা হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন তার দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তাদের বাবার ওপর ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করার অভিযোগ এনেছেন।

বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এমন একটি মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে।

এদিকে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে ইমরান খানের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ছেলেরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সুলাইমান বলেন, ছোট একটি কক্ষে মানবিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা, নতুন বই না দেওয়া এবং পরিবার কিংবা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার মতো বিষয়গুলো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শামিল।

ইমরানের ছেলেদের দাবি, দীর্ঘদিন চিকিৎসার অভাবে তার বাবার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও অল্প সময়ের জন্য তাকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আবার তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।

কাসিম বলেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে তার বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। চাপ কমে গেলে ইমরান খানের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে পাকিস্তান সরকার ইমরানের ছেলেদের এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, কারাগারে ইমরান খান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন।

ইমরানের দুই ছেলে আরও জানান, তারা রাজনীতিতে জড়াতে চান না এবং বাবার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্ব নেওয়ারও কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

তাদের দাবি, মুক্তির বিনিময়ে ইমরান খানও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।