পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধসহ তিন পরিস্থিতির জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রকাশ
ডেল্টা আর্ন্তজাতিক
প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
যুদ্ধের অবসান, যুদ্ধবিরতি কিংবা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ—এই তিন সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইরান। সম্ভাব্য মানবসৃষ্ট ও শত্রুতামূলক হুমকি মোকাবিলায় জনগণের প্রস্তুতি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা সচল রাখাকে পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রধান মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি ১০টি ধারায় এ সংক্রান্ত নির্বাহী নির্দেশনা জারি করেছেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জনকেন্দ্রিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা, সহনশীল ইরান’।
পরিকল্পনার আওতায় জনগণকে প্রস্তুত করা, মানুষ ও জাতীয় সম্পদ সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা অব্যাহত রাখার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইরানের নির্দেশনায় পরিস্থিতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটি ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের সমাপ্তি’, দ্বিতীয়টি ‘মধ্যবর্তী পরিস্থিতি—যেখানে যুদ্ধও নেই, শান্তিও নেই’, যেমন যুদ্ধবিরতি। তৃতীয় পরিস্থিতি হলো ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’। প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা প্রস্তুতি, মহড়া ও কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মূল লক্ষ্য হিসেবে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, নীতি ও কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় জনগণের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মহড়া ও প্রশিক্ষণে ভূমিকম্প বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিবর্তে মানবসৃষ্ট, অপ্রাকৃতিক ও শত্রুতামূলক হুমকি মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জাতীয়, প্রাদেশিক, সাংগঠনিক, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী—সব পর্যায়ে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে এসব পর্যায়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষার সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও কার্যকরী পরিকল্পনা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতীতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ‘আরোপিত যুদ্ধের’ অভিজ্ঞতাও পরিস্থিতি ও কার্যকরী পরিকল্পনা পর্যালোচনার সময় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মানবসৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানো এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা ও প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা।



