আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না মাদক কারবারি, ধরিয়ে দিল ওয়াইফাই
ডেল্টা আর্ন্তজাতিক
প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আলমারির ভেতর লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক মাদক কারবারির। পাবলিক ওয়াইফাইয়ে সংযুক্ত হওয়াই শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্তের সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। পরে অভিযান চালিয়ে ওই আলমারি থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ।
৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা। তিনি উত্তর কিলবার্ন এলাকায় ‘ববি’ নামের একটি মাদক কারবার পরিচালনা করে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মেট্রোর বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এনডিটিভি জানায়, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন শিশুর কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর লুইসের পরিচালিত মাদক কারবার নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নিজের অবস্থান গোপন রাখতে তিনি বিভিন্ন ডিভাইসে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করতেন।
তবে তিনি যে ঠিকানায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে থাকা একটি ডিভাইস পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এরপর গত ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই ঠিকানায় অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে লুইস একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। কিন্তু পুলিশ দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করে আটক করে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশকে নাকি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’
দ্য মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুইসের ফোন বিশ্লেষণ করে প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর একটি তালিকা পাওয়া যায়। ওই তালিকা থেকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফোনকল আসত বলে জানতে পারে পুলিশ।
অভিযানে লুইসের কাছ থেকে কোকেন ও হেরোইনসহ ‘ক্লাস এ’ শ্রেণির মাদক উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড। এ ছাড়া প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনগুলোর একটি ‘ববি’ নামের মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গুলিভর্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩টি গুলি, একটি বড় ধারালো ছুরি এবং একটি ভাঁজ করা ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনে সহায়তার জন্য লুইস তরুণদের নিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে তারা সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিল।
তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, মাদক সরবরাহের এ ধরনের কার্যক্রম তরুণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দ্য মেট্রোর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কিলবার্নে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের অপরাধে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট জোয়েল লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।



