গ্রিসে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বেড়েছে, এগিয়ে ভারত ও ফিলিপাইন
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ইউরোপের দেশ গ্রিসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে কর্মী নিয়োগের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষি খাতে মৌসুমি কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানেও বিদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে ভারত ও ফিলিপাইন থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের নিয়োগের জন্য গ্রিসে ৮৯ হাজার ৯৪০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৫ সালের একই মাসে এ সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৩২টি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আবেদন বেড়েছে ২৮ হাজার ৯০৮টি।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতের মৌসুমি কাজ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান—উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন বেড়েছে।
কৃষি ও দীর্ঘমেয়াদি চাকরিতে আবেদন বৃদ্ধি
গ্রিসে কৃষি খাতে মৌসুমি কর্মী নিয়োগের আবেদন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ১৫ হাজার ১৮৫টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৪২৫টিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরের সঙ্গে মৌসুমি কর্মী নিয়োগ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে এ বৃদ্ধির একটি বড় অংশের সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের জন্য কর্মী নিয়োগের আবেদনও বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ ধরনের আবেদন ছিল ১৫ হাজার ১১১টি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৪৩১টি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে তিন বছরের কর্মসংস্থান চুক্তি প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া বিদেশি কর্মীদের পুনর্নিয়োগের অনুমোদনও বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ৭২৩টি। ২০২৬ সালের একই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৭৪টিতে।
ভারত ও ফিলিপাইন থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগ বেড়েছে
গ্রিসে বিদেশি কর্মী পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত ও ফিলিপাইন থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ভারত থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগের সংখ্যা ছিল সাত হাজার। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৭টি।
অন্যদিকে, ফিলিপাইন থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগের সংখ্যা ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ছিল ছয় হাজার ৬৪৩টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৭৯টিতে।
এদিকে, ফিলিপাইন ও ভারতের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ ও চলাচল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে গ্রিস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি এগিয়েছে। ভারতের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঝুলে থাকা রেসিডেন্ট পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তি
বিদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি দেশটিতে ঝুলে থাকা বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্ট পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির কাজও চলছে।
গ্রিসের সমন্বিত অভিবাসন তথ্যব্যবস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ৮৭ হাজার ৬২৩টি আবেদনের মধ্যে ৬১ হাজার ৩০১টির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, মোট আবেদনের ৬৯ দশমিক ৯৫ শতাংশের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
২০২২ সাল থেকে ঝুলে থাকা কিছু আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের বসবাসের অনুমতিপত্র-সংক্রান্ত জট কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পরিবারের সদস্যদের অধিকার সুরক্ষার সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশিদের জন্য কী সুযোগ রয়েছে?
গ্রিসে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন বৃদ্ধি বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পারে। তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে বাংলাদেশিদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক চাকরি বরাদ্দ বা সরাসরি নিয়োগের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
গ্রিসে কাজ করতে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার বৈধতা, চাকরির চুক্তি, কাজের অনুমতি এবং ভিসার শর্ত যাচাই করে আবেদন করা উচিত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাকরি কিংবা ভিসার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস ও গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য।



