৫ বছরের আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনার ঘোষণা রিফর্ম ইউকে’র
৪ লাখ মানুষ বহিষ্কারের ঝুঁকিতে
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’ ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে গত পাঁচ বছরে অনুমোদিত সব আশ্রয় আবেদন পুনরায় যাচাই বা পুনর্বিবেচনা করবে। এই বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে বসবাসরত প্রায় চার লাখ মানুষ বহিষ্কারের মুখে পড়তে পারেন।
কঠোর পরিকল্পনা ও ‘মডুলার’ আটক কেন্দ্র
রিফর্ম ইউকে’র হোম অ্যাফেয়ার্স মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ এই পদক্ষেপকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
পুনর্বিবেচনা: যাদের ইতিমধ্যে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা যাদের নিজ দেশকে রিফর্ম সরকার ‘নিরাপদ’ ঘোষণা করবে, তাদের সবাইকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
-
আটক কেন্দ্র: বিপুল সংখ্যক মানুষকে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে ২২ হাজার ৫০০ ধারণক্ষমতার ‘মডুলার’ আটক কেন্দ্র তৈরি করা হবে।
-
বহিষ্কারের লক্ষ্য: দলটি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে দেশছাড়া করার পরিকল্পনা করছে।
-
অধিকার খর্ব: অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের জন্য কোনো সরকারি ভাতা বা আবাসন সুবিধা রাখা হবে না। এমনকি পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অধিকারও বাতিল করতে চায় দলটি।
ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন ত্যাগের ডাক
রিফর্ম ইউকে’র নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, ছোট নৌকায় করে আসা কাউকে কোনোভাবেই আশ্রয় দেওয়া হবে না। বহিষ্কার প্রক্রিয়া সহজ করতে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রিফর্ম ইউকে’র এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো:
-
লিবারেল ডেমোক্র্যাট: তারা এই পরিকল্পনাকে ‘অবাস্তব ও হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দেবে।
-
লেবার পার্টি: বর্তমান হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, তাদের সরকার ইতিমধ্যে অভিবাসন কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
-
গ্রিন পার্টি: দলটি এই পরিকল্পনাকে ‘মানবিকতার পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছে।
শরণার্থী কাউন্সিলের উদ্বেগ
শরণার্থী কাউন্সিল এই পরিকল্পনাকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, লাখ লাখ আবেদন পুনরায় যাচাই করতে গেলে দেশটির আদালত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং করদাতাদের কোটি কোটি পাউন্ড অর্থের অপচয় হবে।
সারসংক্ষেপ: রিফর্ম ইউকে’র এই আক্রমণাত্মক অবস্থান দেশটির আসন্ন নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও মানবাধিকার আইনের কারণে এই পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।



