প্রিয়জনের মৃত্যু: শোককে সওয়াবে পরিণত করার ইসলামী পদ্ধতি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৩২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও সম্পর্কের টান ও স্মৃতিগুলো হৃদয়ে অমলিন থাকে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে এবং তাদের আত্মার কল্যাণে ইসলাম অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও সহজ কিছু আমল বাতলে দিয়েছে। ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী মৃতদের স্মরণ করা কেবল আবেগের বিষয় নয়, বরং এটি তাদের জন্য যেমন উপকারি, জীবিতদের জন্যও পরকালের পাথেয়।

মৃত ব্যক্তির গুণাবলি আলোচনা করা

প্রিয়জন মারা গেলে তাদের মন্দ দিকগুলো গোপন রেখে ভালো কাজগুলো আলোচনা করা ইসলামের নির্দেশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, মৃতদের ভালো কাজগুলো আলোচনা করতে এবং তাদের দোষত্রুটি নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে। এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং সমাজের মানুষের সামনে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে।

সর্বোত্তম উপহার: দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা

মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করা। পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতা ও মুমিনদের ক্ষমার জন্য আম্বিয়ায়ে কেরামদের দোয়ার বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া হাদিস অনুযায়ী, মানুষ মারা গেলেও তার তিনটি আমল চালু থাকে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘সুসন্তান’, যে তার মৃত বাবা-মায়ের জন্য প্রতিনিয়ত দোয়া করে। এই দোয়ার মাধ্যমেই কবরে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

সদকায়ে জারিয়া ও কল্যাণমূলক কাজ

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা তাদের আত্মার প্রশান্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। সাহাবী সাদ ইবনে উবাদা (রা.)-এর মা মারা যাওয়ার পর রাসুল (সা.)-এর পরামর্শে তিনি একটি বাগান সদকা করেছিলেন। মসজিদ নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন বা জনকল্যাণমূলক কাজে মৃত ব্যক্তির নামে দান করা হলে সেই সওয়াব তারা কবরে বসেই পেতে থাকেন। একেই বলা হয় সদকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান দান।

কবর জিয়ারত ও পরকাল স্মরণ

মাঝেমধ্যে কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য জিয়ারত করা সুন্নাহসম্মত আমল। এতে শুধু মৃত ব্যক্তিরাই উপকৃত হন না, বরং জিয়ারতকারী নিজেও দুনিয়াবিমুখ হতে পারেন এবং নিজের পরকাল নিয়ে ভাবার সুযোগ পান। এটি মানুষকে পাপ থেকে দূরে থাকতে এবং আখিরাতের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ইসলামে শোক প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতা বা নির্দিষ্ট দিনে বাধ্যবাধকতার স্থান নেই। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বা বিদআতের পরিবর্তে ইসলাম আমাদের শেখায় সরলতা ও আন্তরিকতা। দোয়া, সদকা এবং ভালো কাজের মাধ্যমেই প্রিয়জনের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশ করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই মৃত ও জীবিত—উভয় পক্ষই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।