ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি ‘বেআইনি’, মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) পাওয়া কঠিন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছিলেন, তা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত এই নীতিকে ‘বৈষম্যমূলক ও বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন।
বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জুলিয়া কোবিক গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। রায়ের পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট নীতির ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ: ইরান, হাইতি, ভেনিজুয়েলা ও সিরিয়াসহ ২০টি দেশের প্রায় ২০০ জন অভিবাসন প্রত্যাশী এই নীতিমালার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মার্কিন অভিবাসন দপ্তর (USCIS) তাঁদের আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং কাজের অনুমতির আবেদনগুলো প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। জাতীয়তার ভিত্তিতে এভাবে আবেদন আটকে রাখাকে তাঁরা চরম বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারক জুলিয়া কোবিক তাঁর রায়ে বলেন:
-
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম থাকলেই সেই দেশের নাগরিকদের আবেদন আটকে রাখা এবং জাতীয়তাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা আইনবিরোধী।
-
এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’-এর সাথে সাংঘর্ষিক, কারণ মার্কিন আইনে জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ।
-
প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই একতরফাভাবে এভাবে আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পারে না।
রায়ের প্রভাব: আদালত প্রাথমিকভাবে ২২ জন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই বৈষম্যমূলক নীতির প্রয়োগ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বাকিদের ক্ষেত্রেও এটি কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের একটি বড় প্রতিরোধ। এর ফলে আগামীতে একতরফাভাবে এমন বৈষম্যমূলক নীতি চাপিয়ে দেওয়া হোয়াইট হাউসের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।



