মালয়েশিয়ায় ‘শূন্য খরচে’ কর্মী নিয়োগ: সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ৫, ২০২৬

মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মীদের জন্য ‘বিনা খরচে’ নিয়োগের যে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে, তা শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে। গত ৮ এপ্রিল ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নিয়োগের যাবতীয় খরচ বহন করবেন নিয়োগকর্তারা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) ‘নিয়োগকর্তা ব্যয় বহন করবে’ (Employer Pays Principle) নীতির সঙ্গে এটি সংগতিপূর্ণ।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া যেতে সরকার নির্ধারিত খরচ ছিল মাত্র ৭৯ হাজার টাকা। কিন্তু অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ কর্মীদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। ১০১টি নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগের পর ২০২৪ সালের মে মাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এই দীর্ঘদিনের অনিয়মই নতুন নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার এবং গবেষক মোহাম্মদ হারুন-আল রশিদ মনে করেন, আইএলও-র নিয়ম কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে এর সুফল কর্মীরা পাননি। মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘TURAP’ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই সিস্টেমটি তৈরি করেছে ‘বেস্টিনেট’ কোম্পানি, যার প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলামের আগের সিস্টেম ‘FWCMS’ সিন্ডিকেট ও উচ্চ খরচের অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।

বাস্তবায়নে বড় বাধা:

  • সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: ১০১টি এজেন্সির বাইরে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সব এজেন্সিকে সুযোগ না দিলে খরচ কমানো সম্ভব হবে না।

  • অস্পষ্ট মানদণ্ড: এজেন্সিগুলোর জন্য বড় অফিস ও উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা প্রকারান্তরে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • জবাবদিহিতার অভাব: অতীতে যারা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে বা কর্মী শোষণে জড়িত ছিল, তাদের শাস্তির আওতায় না আনলে নতুন উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে।

১৯৯২ সাল থেকে গত তিন দশকে অন্তত পাঁচবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ ও চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সত্যিই ‘শূন্য খরচে’ কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে হয়, তবে অতীতের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় এই ঘোষণা কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।