প্যারিসে ধর্মঘটের পর বৈধতা পেলেন ৯ অনিয়মিত অভিবাসী কর্মী
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি বিউটি পার্লারের নয়জন অনিয়মিত অভিবাসী কর্মী দীর্ঘ ধর্মঘটের পর বৈধ আবাসনের অনুমতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে শ্রমিক অধিকার সংগঠন সিজিটি (সিজিটি) ইউনিয়ন।
প্যারিসের ১০ম অ্যারোনডিসমেন্টে অবস্থিত ‘সাবাদু অ্যান্ড জাদ’ নামের একটি বিউটি সেলুনে কর্মরত এসব শ্রমিক গত মার্চে বেতন বকেয়া, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক না পাওয়া এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন।
সিজিটি জানিয়েছে, টানা ৭৮ দিনের আন্দোলনের পর চারজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী কর্মী অস্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিট পেয়েছেন।
ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ১৩ জন কর্মীর বেশিরভাগই ছিলেন অনিয়মিত অভিবাসী। তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছিলেন না। সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করলেও অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক কিংবা ছুটির সুবিধা দেওয়া হতো না।
এ ছাড়া প্রতি মাসে তাদের বেতন থেকে ২৫০ ইউরো কেটে নেওয়া হতো। বলা হতো, ভবিষ্যতে বৈধতা পাওয়ার প্রশাসনিক খরচের জন্য এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালে ফ্রান্সে পাস হওয়া নতুন অভিবাসন আইনের আওতায় এই নয়জন কর্মীকে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে অস্থায়ী আবাসন অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মামলার কার্যক্রম চলাকালে এসব পারমিট নবায়নযোগ্য থাকবে। অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হলে পরে তাদের ১০ বছরের রেসিডেন্ট পারমিটও দেওয়া হতে পারে।
সিজিটির প্যারিস শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক আদেল তেলেজ বলেন, “চাঁদাবাজি, অমানবিক কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বেতনসহ ছুটির অনুপস্থিতি এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করানোর মতো ঘটনায় মানবপাচারের উপাদান পাওয়া গেছে।”
তিনি জানান, কয়েকজন নারী গর্ভাবস্থাতেও সেখানে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
আইভরি কোস্ট থেকে আসা ৫০ বছর বয়সি কর্মী মায়েরিমা জানান, শুরুতে তিনি বেতন থেকে ২৫০ ইউরো কেটে নেওয়াকে স্বাভাবিক মনে করেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, তিনি যত ঘণ্টা কাজ করতেন, তার সব সরকারি নথিতে দেখানো হতো না।
তার ভাষায়, কখনও কখনও বেতন স্লিপে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজের হিসাব দেখানো হতো, অথচ তিনি সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করেছেন।
আরেক কর্মী ফোফানা বলেন, “মালিক বলতেন তিনি আমাদের বৈধতা পেতে সাহায্য করছেন। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই প্রতারিত হয়েছি।”
সিজিটির দাবি, আদালত ইতোমধ্যে বিউটি সেলুনটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা শিগগিরই প্রথম দফায় কিছু ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
তবে অভিযুক্ত নিয়োগকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্চে বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছিলেন, “সবই মিথ্যা। আমি এসব নারীদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।”
ধর্মঘটে অংশ নেওয়া কর্মীরা এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। হেয়ারড্রেসার ফাদিমাতু বিনতু বলেন, “এখন আর আমাদের প্রতারকদের ওপর নির্ভর করতে হবে না।”
সিজিটির দাবি, এই ঘটনার পর একই এলাকায় আরও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণের তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনটির মতে, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সিনেটর ইয়ান ব্রোসা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, “তাদের সাহস ও দৃঢ়তার ফল মিলেছে।”
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস/এএফপি



