টিউশন ফি ছাড়াই নিউজিল্যান্ডে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ

থাকছে ২৫ লাখ টাকা ভাতা!

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই, কিন্তু বিশাল অঙ্কের খরচের কথা চিন্তা করে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে উচ্চশিক্ষার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবার দারুণ এক সুযোগ নিয়ে এসেছে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো (University of Otago)। সম্পূর্ণ বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুবর্ণ সুযোগ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের এই স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ গবেষণাভিত্তিক এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা শতভাগ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি পাবেন মোটা অঙ্কের লিভিং অ্যালাউন্স বা জীবনযাত্রা ভাতা। ফলে প্রায় কোনো খরচ ছাড়াই নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য প্রার্থীরা।

স্কলারশিপের আওতায় যেসব সুবিধা মিলবে

বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে মাস্টার্স এবং পিএইচডি—উভয় প্রোগ্রামের জন্যই পৃথক ও আকর্ষণীয় ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে:

মাস্টার্স প্রোগ্রাম: নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে ৩৫,০০০ নিউজিল্যান্ড ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ লাখ ১৮ হাজার টাকার বেশি) লিভিং অ্যালাউন্স পাবেন। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে। তবে স্টুডেন্ট সার্ভিস ফি ও স্বাস্থ্যবিমা শিক্ষার্থীকে নিজেকে বহন করতে হবে।

পিএইচডি প্রোগ্রাম: ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে ৩৪,১২৮ নিউজিল্যান্ড ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকার বেশি) ভাতা পাবেন। এর সাথে ৩৬ মাস (৩ বছর) পর্যন্ত সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ থাকবে। পিএইচডির ক্ষেত্রেও স্টুডেন্ট সার্ভিস ফি ও স্বাস্থ্যবিমা এই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত নয়।

আবেদনের যোগ্যতা

এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিচের যোগ্যতাগুলো থাকতে হবে:

মাস্টার্সের ক্ষেত্রে: এটি আবেদনকারীর প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রি হতে হবে এবং প্রোগ্রামটি অবশ্যই থিসিস বা গবেষণাভিত্তিক হতে হবে।

পিএইচডির ক্ষেত্রে: আবেদনকারীকে তাঁর প্রথম ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য আবেদন করতে হবে।

নাগরিকত্ব: বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

পড়াশোনার বিষয়সমূহ:

অ্যানাটমি, মেডিসিন, পাবলিক হেলথ, কম্পিউটার সায়েন্স, কেমিস্ট্রি, জিওলজি, ফিজিক্স, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ইকোনমিকস, ফাইন্যান্স এবং ট্যুরিজমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার করা যেকোনো গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য আলাদা আলাদা আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় সব শিক্ষাগত ও গবেষণার কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে আবেদন করা যাবে।

আবেদনের শেষ সময়: এই স্কলারশিপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এর কোনো নির্দিষ্ট ডেডলাইন বা শেষ সময় নেই। সারা বছরই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। তাই প্রার্থীরা তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যেকোনো সময় আবেদন করতে পারবেন।