স্টুডেন্ট ভিসা আপিলে বড় পরিবর্তন, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেবে অস্ট্রেলিয়া
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ট্রেনিং ভিসাধারী এবং রিজিওনাল এলাকায় কর্মসংস্থানের জন্য আবেদনকারীদের ওপর এসব নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে।
সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন বাতিল হলে আপিল প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনাল (এআরটি) অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি শুনানি ছাড়াই জমা দেওয়া নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আপিল আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ৪০৭ ট্রেনিং ভিসার আওতায় থাকা কর্মী ও স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগ। কর্মকর্তারা বিভিন্ন কর্মস্থল পরিদর্শন করে প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে।
রিজিওনাল বা আঞ্চলিক এলাকায় দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত সাবক্লাস ৪৮২ ও ৪৯৪ ভিসার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী জুলাই থেকে কর্মী স্পনসর করতে ন্যূনতম বার্ষিক বেতন প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে ছোট ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য বিদেশি কর্মী স্পনসর করা কিছুটা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ট্রেড রিকগনিশন অস্ট্রেলিয়া (টিআরএ) স্কিল অ্যাসেসমেন্টের নির্দেশিকা সহজ ভাষায় প্রকাশ করেছে। যদিও মূল নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষতা মূল্যায়ন সম্পন্ন হতে বর্তমানে প্রায় চার মাস সময় লাগছে।
এদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য প্যারেন্ট ভিসার কোটা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর মধ্যে কন্ট্রিবিউটিং প্যারেন্ট ভিসার জন্য ৬ হাজার ৮০০টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ করে তুলতে চায়। তাই নতুন নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই সঠিক তথ্য জেনে প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো



