কর্মীদের ভিসা নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া শ্রমিক অভিবাসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডডব্লিউজি) বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটি।  একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কলিং ভিসা ও নতুন শ্রমিক নিয়োগ

মালয়েশিয়া জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে তাদের বিদ্যমান নীতির আওতায় নতুন শ্রমিক কোটা বা কলিং ভিসার অনুমোদন কেস-টু-কেস ভিত্তিতে দেওয়া হবে।  অর্থাৎ নিয়োগকর্তার প্রকৃত চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নির্ধারিত সীমার ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে নতুন কোনো কোটা অনুমোদিত হলে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক হয়, সে বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।  পাশাপাশি কেবল যোগ্য ও নির্ভরযোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক

দুই দেশ বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডডব্লিউজি) বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে কার্যকর শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করে সময়োপযোগী একটি নতুন সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও উচ্চপর্যায়ের সফর শ্রমিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।  ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় দেশের নেতারা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

শিক্ষার্থী ও দক্ষতা উন্নয়ন

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।  একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি), দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত করার কোনো ঘোষণা না থাকলেও নতুন শ্রমিক কোটা অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।  পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের আলোচনা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে কলিং ভিসা ও শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।