চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১০টি সমঝোতা স্মারক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬
মালয়েশিয়া সফর শেষে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ, চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ তুলে ধরবেন।
সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ানের ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও সঙ্গে ছিলেন। বিমানবন্দরে লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাদের স্বাগত জানান।
সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালোইস জুইংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার। এছাড়া চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানের আয়োজিত সংবর্ধনাতেও অংশ নেবেন তিনি।
২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ বা ‘সামার ডাভোস’-এর ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন। একই দিনে চীনের রেলওয়ে, সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং যন্ত্রপ্রকৌশল খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেরও সূচি রয়েছে।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম। প্রায় ১০০ জন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সামনে বাংলাদেশের শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং প্রযুক্তিখাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। এ সময় চীনের কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চুক্তি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে নতুন গতি দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। একই দিনে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সফর শেষে শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।



